হইয়া বাছিউ: রহস্যময় এক ভূতুড়ে জঙ্গল

গভীর জঙ্গল মানে ঘন গাছপালা, বন্য জীব-জন্তু, সাপ, পোকা-মাকড় আর নানা পাখির আবাসস্থল। জঙ্গলের প্রতি আমরা সবসময় এক ধরনের রোমাঞ্চকর আকর্ষণ অনুভব করি। ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি জঙ্গলে থাকে বাঘ ভাল্লুক সহ নানা ভয়ংকর জীব জন্তু। তবে কেবল যে ভংয়কর জীব জন্তুই আমাদের জঙ্গল সম্পর্কে ভয় ধরিয়ে দেয় এমনটি নয়। এসব রক্ত মাংসের প্রাণী ছাড়াও ধরা ছোঁয়ার বাইরে অশরীরি এমন কিছুর অস্তিত্বে আমাদের বিশ্বাস রয়েছে যা জঙ্গল সম্পর্কে আমাদেরকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। এখনোও পর্যন্ত অনেক মানুষই এমন পাওয়া যাবে হয়ত যারা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন যে, জঙ্গলে বন্য প্রাণী ছাড়াও জ্বীন ভূতের মত এমন অশরীরি কিছু বাস করে।

সময়ের সাথে বিজ্ঞান নানা রহস্যকে মানুষের সামনে উন্মোচন করলেও এখনোও পর্য্ন্ত অনেক বিষয় আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গিয়েছে। আজও পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানকার ঘিরে থাকা রহস্যকে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারিনি। খুঁজলে এমন তালিকায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল থেকে শুরু করে আরো অনেক নামই হয়তো উঠে আসবে। তবে পৃথিবীর সবথেকে ভৌতিক জঙ্গলের তালিকা করলে যে নামটি সবার উপরে থাকবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ”হইয়া বাছিউ” (Hoia Baciu)।

Hoia Baciu Forest – image source: vanillamagazine.it

হইয়া বাছিউ জঙ্গলের অবস্থান

রহস্যময় ভৌতিক জঙ্গল হইয়া বাছিউ এর অবস্থান ইরোপের দেশ রোমানিয়ায় (Romania)। এটি অবস্থিত রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়ার (Transylvania)  ক্লাজ নাপকা (Cluz-Napoka) শহরের কাছে। বলা যায় একটি দীর্ঘ সময় রোমানিয়ার এ জঙ্গল বিশ্বের কাছে অপরিচিত থেকে গিয়েছিল। ১৯৬০ সালে জীববিজ্ঞানী আলেক্সজান্ড্রু (Alexandru) হইয়া বাছিউ জঙ্গলের আকাশে একটি রহস্যময় গোলাকার আলোক চাকতির ছবি তোলেন। এর পরবর্তীতে সামরিক কর্মকর্তা এমিল বার্নিয়া (Emil Barnea) একই রকম আরেকটি উড়ন্ত চাকতির ছবি তোলেন এ জঙ্গলটিতে। UFO (Unidentified Flying Object) বা এলিয়েন প্রযুক্তি হতে পারে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে দেশে বিদেশে। সেই সাথে হইয়া বাছিউ সারা বিশ্বের কাছে একটি পরিচিত রহস্যের নাম হয়ে ওঠে। সত্তরের দশক জুড়ে একের পর এক UFO এর দেখা পাওয়ার খবর আসতে থাকে জঙ্গলটি থেকে।

সে সময় সারা বিশ্বের কাছে হইয়া বাছিউ নতুনভাবে পরিচিত হলেও রোমানিয়ার অধিবাসীদের কাছে তা অনেক আগে থেকেই কুখ্যাত ভৌতিক জঙ্গল হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি আজও পর্যন্ত সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে এ জঙ্গলটি নিয়ে নানা ভৌতিক উপকথা প্রচলিত। এসব ভৌতিক উপকথার কারণে জঙ্গলটির আশেপাশেও আজও পর্যন্ত লোকালয় বা আবাসস্থল গড়ে ওঠেনি। স্থানীয়রা খুব বেশি সেদিকে যাতায়াত করেন না বললেই চলে। একমাত্র রোমাঞ্চ সন্ধানী পর্যটক, গবেষক বা অনুসন্ধানকারী ছাড়া এ জঙ্গলে তেমন মানুষের যাতায়াত বা চলাচল নেই।

মানচিত্রে হইয়া বাছিউ’র অবস্থান – image source: maps.google.com

হইয়া বাছিউকে ঘিরে থাকা রহস্য ও উপকথাসমূহ

যেকোন সাধারণ পর্যটকের বর্ণনায় যে বিষয়টি সবার প্রথমে উঠে আসে সেটি হলো এ জঙ্গলটি অস্বাভাবিক রকমের নির্জন। এমনকি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটিয়েও অনেকেই সারাদিনে কোন জীবজন্তুর দেখা তো দূরে থাক এমনকি কোন পাখির ডাকও শোনেন নি বলে দাবি করেন। শুকনা পাতার ওপর দিয়ে পর্যটকদের চলার মরমর শব্দ আর তাদের ফিসফাস কথার আওয়াজ ছাড়া গোটা জঙ্গলটিতে বিরাজ করে সুনসান নীরবতা। তবে অনেকেই দাবি করেন যে, এ ভয়ঙ্কর নি:শব্দতার মধ্যেই মনে হয় সারাক্ষণ আড়াল থেকে কেও তাদের ওপর নজর রেখে চলেছে। একাধিক পর্যটক তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় এ অস্বস্থিকর অনুভূতির কথা উল্লেখ করেছেন।

জঙ্গলের নি:শব্দতা আর প্রাণহীণ নি:সঙ্গতার বাইরে সকলের চোখে পড়ার মতো যে অদ্ভূত বিষয়টি এ জঙ্গলে দেখা যায় সেটি হলো গাছগুলির অস্বাভাবিক আকৃতি। জঙ্গলের কিছু ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় গাছগুলির আকৃতি অস্বাভাবিকভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে। গাছগুলি গুড়ি অন্যান্য গাছের মত মাটি থেকে সোজা উপরের দিকে না উঠে  কিছুটা বাঁকিয়ে তারপর উপরের দিকে উঠে গিয়েছে। সবগুলি গাছ অদ্ভুতভাবে একই দিকে বাঁকা হয়ে আছে। দেখে মনে হতে পারে এ জঙ্গলটি যেন ঠিক এ পৃথিবীর নয় বরং কল্প-বিজ্ঞানের কোন ভীন গ্রহের জঙ্গল।

জঙ্গলের একটা অংশে দেখা মেলে এমন অদ্ভুত আকৃতির সব গাছের – image source: couriermail.com.au

এসব অস্বাভাবিক আকৃতির গাছগুলিকে পেছনে ফেলে জঙ্গলের ঠিক মাঝের দিকে প্রবেশ করলে হইয়া বাছিউ এর কেন্দ্রে বৃত্তাকার আয়তনের একটি ফাঁকা স্থান দেখা যায়। এ ফাঁকা স্থানটিতে কোন গাছ লতা গুল্ম এমনকি ঘাস পর্যন্তও জন্মে না। বিস্তর গবেষনা চালানো হয়েছে এ স্থানটিতে গাছ না জন্মানোর কারণ খুঁজে বের করার জন্য। এমনকি এ স্থানটি মাটি পরীক্ষাগারে নিয়েও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে গাছ না জন্মানোর কারণ খতিয়ে দেখার জন্য। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো এখানকার মাটিতে এমন কোন উপাদানই খুঁজে পাওয়া যায়নি যার জন্য গাছ বা ঘাসের জন্মানো বা বৃদ্ধি বাঁধা প্রাপ্ত হতে পারে। ফলে আজও বৃত্তাকার স্থানটি জীববিজ্ঞানী, উদ্ভিদ বিজ্ঞানীসহ সাধারণ মানুষের কাছে একটি রহস্য হয়ে আছে।

তবে বিজ্ঞানীরা হইয়া বাছিউ জঙ্গলে অস্বাভাবিক মাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এর কথা তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি এখানকার চুম্বকীয় ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায় বলে তারা উল্লেখ করেছেন। সাধারণ মানুষও এ জঙ্গলে প্রবেশের পর তাদের ঘড়িসহ ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক আচরণের কথা লক্ষ্য করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি গুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যেগুলো জঙ্গলে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তেও ঠিকমত কাজ করছিল সেগুলিই হঠাৎ জঙ্গলে প্রবেশের পর থেকে বিকল হয়ে যেতে শুরু করে। আবার জঙ্গলের বাইরে চলে আসার পরপরই তা পুনারায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় বিকীরণ বা চুম্বকীয় ক্ষেত্রের জন্য এমনটা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারনা করে হলেও আজও পর্যন্ত এর কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এমন থমথমে ভৌতিক পরিবেশ বিরাজ করে জঙ্গলের ভেতরে – image source: couriermail.com.au

এসবের বাইরেও এ স্থানটি নিয়ে স্থানীয়দের দ্বারা বেশ কিছু ব্যাখ্যাহীন কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে সবচে জনপ্রিয় উপকথাটি হচ্ছে হইয়া বাছিউ জঙ্গলের নাম করা হয়েছে একজন রাখালের নামে যে এ জঙ্গলের কাছেই থাকতো। একদিন সে তার ভেড়ার পাল নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করে ভেড়াগুলিকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য। আশ্চর্যজনকভাবে জঙ্গলে প্রবেশের পর সে তার ২০০টি ভেড়া সহ উধাও হয়ে যায়। তাদেরকে আর কখনো ফিরে আসতে দেখা যায়নি। এমনকি জঙ্গলে রাখাল বা ভেড়ার কোন মৃতদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে আজও পর্যন্ত এটি একটি রহস্য যে, ভেড়া গুলো নিয়ে রাখাল কোথায় হারিয়ে গেলেন বা তাদের সাথে ঠিক কি হয়েছিল।

এমনি অন্য আরো একটি রহস্যময় কাহিনী প্রচলিত আছে এ স্থানটি সম্পর্কে। পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে একবার এ জঙ্গলটিতে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি সে সময়। তবে হারিয়ে যাবার পাঁচ বছর পর আবার সে জঙ্গল থেকে ফিরে আসে। সে যে জামা গায়ে হারিয়ে গিয়েছিল সে জামা পরা অবস্থায়ই ফিরে আসে। এ পাঁচ বছরে তার জামা কোথাও ছিঁড়ে বা ময়লা হয়ে যায়নি এমনকি দেখা যায় তার বয়সও বাড়েনি। তাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন সে কোথায় ছিল, কি হয়েছিল এ সব বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি। এমনই রহস্যময় ভাবে অনেক মানুষেরই হারিয়ে যাবার গল্প প্রচলিত রয়েছে এ জঙ্গলটিকে কেন্দ্র করে। তাদের কেউ হয়ত ফিরে এসেছে আবার অনেকেই হারিয়ে গেছে চিরদিনের জন্য। তবে যারাই ফিরে এসেছে তারা হারিয়ে যাওয়া সময় সম্পর্কে বেশি কিছু মনে করতে বা বলতে পারেনি।

জঙ্গলে প্রবেশের পর আর কখনোও ফিরে আসেনি রাখাল এবং তার ভেড়ার পাল – image source: Plain Bible Teaching

এমন রহস্যময়ভাবে হারিয়ে যাবার কারণে অনেকেই এ জঙ্গলের সাথে প্যারালাল জগতের সাথে কোন সম্পর্ক থেকে থাকতে পারে বলে মনে করেন। তাদের ধারনা মতে হয়ত এ জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ভিন্ন মাত্রার জগতের কোন যোগসূত্র রয়েছে। অন্যদিকে অনেকেই এ জঙ্গলে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর দেখা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বেশ কিছু ছবিতে হইয়া বাছিউ এর আকাশে রহস্যময় আলোর চাকতির দেখা পাওয়া যায়। ফলে অনেকের ধারণা এ জঙ্গলে হয়তো কোন ভীনগ্রহের প্রাণী বাস করছে বা বিভিন্ন সময় তাদের আগমন ঘটেছে। তাদের ধারণা মতে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আসলে এসব ভীন গ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের কোন এক্সপেরিমেন্ট এর শিকার। যাদের মধ্যে কাওকে হয়ত ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তবে সবাই সে সুযোগ পায়নি। আবার যাদেরকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মস্তিস্ক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময়কালের স্মৃতি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়। ফলে ফিরে আসার পর তারা সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারে না।

রোমানিয়ান সেনা বাহিনী তাদের সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অনেক সময় হইয়া বাছিউ জঙ্গলকে ব্যবহার করে। তাদের মাঝেও এ জঙ্গল নিয়ে নানা ভীতিকর কাহিনী প্রচলিত আছে। একরাতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে একদল সেনা জীপে করে একটি ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল। পথে তারা একজন বৃদ্ধের দেখা পান এবং এতো রাতে কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞাসা করেন। সেনাদলটি যেদিকে যাচ্ছিল বৃদ্ধটিও সেদিকে যাবার কথা বলেন। ফলে সেনারা তাকে জীপের পেছনে তুলে নেয় পৌঁছে দেবার জন্য। কিছুদূর যাবার পর বৃদ্ধ লোকটি পেছনের সিট থেকে বেমালুম উধাও হয়ে যান এতগুলো মানুষের চোখের সামনে থেকে। এ ঘটনায় হতবুদ্ধি সেনারা পরবর্তীতে জঙ্গলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। তবে সে রাতের অনুসন্ধানে সেই রহস্যময় বৃদ্ধ মানুষটি বা অন্য কোন জন মানুষের উপস্থিতি সমগ্র জঙ্গলের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

পর্যটকের ক্যামেরায় তোলা ছবিতে কিছু একটা অস্পষ্ট অবয়ব ধরা পড়ছে – image source: Steemit

হইয়া বাছিউ জঙ্গল সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে আরো একটি গল্প প্রচলিত হয়ে আছে দীর্ঘ সময় ধরে। রোমানিয়ার এ জঙ্গলে অনেককাল আগে একদল চাষীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজও তাদের প্রেতাত্মা এ জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং জঙ্গলকে ঘিরে সকল ভৌতিক কার্যালাপের জন্য আসলে এসব প্রেতাত্মারাই দায়ী। স্থানীয়দের বিশ্বাস মতে জঙ্গলে কেউ প্রবেশ করলেই প্রেতাত্মারা তার পিছু অনুসরণ করা শুরু করে। তারা এ জঙ্গলে কোন প্রাণী বা মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করে না। অনেক পর্যটকই তাদেরকে অনুসরণ করা হচ্ছে এমন অনুভূতির কথা উল্লেখ করে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বলেন যে জ্বলজ্বলে সবুজ চোখের প্রাণী বা অশরীরি কিছু তাদেরকে ক্রমাগত আড়াল থেকে লক্ষ্য করতে থাকে।

যাদুবিদ্যা বা প্রেতাত্মা নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেই এ জঙ্গলটিতে পা রেখেছেন। আবার আশেপাশের দেশ বিশেষ করে হাঙ্গেরি, জার্মানি, ফ্রান্স এমন কি আমেরিকা থেকেও বিভিন্ন গবেষক ও বিজ্ঞানী জঙ্গলটিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়েছেন এখানকার রহস্যময় ঘটনাগুলিকে বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য। এখানে অনুসন্ধানে আসা বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটক পর্যন্ত অনেকেই মুখোমুখি হয়েছেন ব্যাখ্যাহীন ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার। অনেকেই সেগুলিকে তাদের ছবি বা ভিডিওতে বন্দী করার চেষ্টা করেছেন। একইভাবে অনেকে আবার এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন যেখানে ভিডিও বা ছবি তোলার সময় হয়তো খালি চোখে কোন অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি। কিন্তু যখন পরবর্তীতে ছবিগুলো বের করেছেন বা ভিডিও গুলি দেখতে গিয়েছেন সেখানে অদ্ভুত অবয়বের উপস্থিতি ফুটে উঠেছে।

অন্য আরেকটি ছবিতে ধরা পড়েছে রহস্যময় অবয়বের উপস্থিতি। image source: Steemit

বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা পত্রিকা ও প্রকাশনা থেকে শুরু করে টেলিভিশন চ্যানেল হইয়া বাছিউ নিয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। বিবিসির মত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও রহস্যময় এ জঙ্গলটি সম্পর্কে প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে পৃথিবীর সবথেকে রহস্যময় বা ভৌতিক স্থানগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে রোমানিয়া এ রহস্যময় জঙ্গলটি, যার রহস্য আজও আকর্ষণ করে চলেছে রোমাঞ্চ পিপাসু রহস্যপ্রেমী মানুষদেরকে।

This article is about the mysterious Romanian forest, Hoia Baciu.
Featured image source: Dread Central

Share Your Reactions or Comments Below
  • Awesome (2)
  • Interesting (0)
  • Useful (0)
  • Boring (0)
  • Not Good (0)

আরো দেখুন

Leave a Comment